আশিস রহমান::
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা, চেলা, কালিউরি ও চিলাই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে আগাম বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন উপজেলার শত শত মাছচাষী। বন্যার পানিতে পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে দিন-রাত এক করে পুকুর ও ঘেরের চারপাশে জাল এবং বাঁশের বেড়া ফিটিংয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। চাষীদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যেকোনো মুহূর্তে পুকুর তলিয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় শত শত পুকুর ও বাণিজ্যিক মৎস্য খামারে এখন চলছে সুরক্ষার প্রস্তুতি। চাষীরা বাজার থেকে নেট, বাঁশ ও সুতা কিনে পুকুরের পাড় উঁচু করে বেড়া দিচ্ছেন। অনেক চাষী আবার তড়িঘড়ি করে বড় মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন, যাতে বড় ধরনের লোকসান এড়ানো যায়। সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের মাছচাষী হাবিবুল কবির শুভ বলেন, গত কয়েকদিনের বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে পুকুরের পানি পাড় ছুঁইছুঁই করছে। গত বন্যায় সব মাছ ভেসে গিয়ে অনেক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম। এবার আর ঝুঁকি নিতে চাচ্ছি না। তাই জাল কিনে পুরো পুকুর ঘেরাও করছি, যেন পানি বাড়লেও মাছ বের হতে না পারে। আরেক খামারি দ্বীন ইসলাম জানান, পাহাড়ি ঢলের পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমরা আতঙ্কে আছি। রাত জেগে পুকুর পাহারা দিতে হচ্ছে। চারদিকের জালে ভালো করে খুঁটি গেড়ে দিচ্ছি। যদি পানি বেশি ওপরে উঠে যায়, তবে নেট দিয়েও শেষ রক্ষা হবে কি না জানি না। দোয়ারাবাজার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরেফিন মাহমুদ বলেন, উজান থেকে আসা ঢলে দোয়ারাবাজারে পানি বাড়ছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে চাষীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি এবং পুকুর পাড়ে শক্ত নেট বা বাঁশের বানা দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া যেসব মাছ বিক্রির উপযোগী, সেগুলো ধরে বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। মৎস্য বিভাগ থেকে চাষীদের সব ধরনের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. লুৎফর রহমান জানান, এখনো বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের সবকটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে এবং জরুরি যোগাযোগের জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। বিভিন্ন নৌকার মাঝিদের তালিকা ও মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করা হয়েছে। তাছাড়া শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারদের সমন্বয়ে একটি মেডিক্যাল টিমও গঠন করা হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে পানি
কোটি টাকার মাছ রক্ষায় আগাম প্রস্তুতি, বন্যা নিয়ে উৎকণ্ঠায় চাষীরা
- আপলোড সময় : ১১-০৭-২০২৬ ১২:৪৯:৫২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-০৭-২০২৬ ১২:৫০:১৯ অপরাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ